জলসাঘর » বায়ান্ন ব্যঞ্জন » ফকিরানা কেরামতি
author photo

ফকিরানা কেরামতি

[কেমিক্যাল নিয়ে যাদের উচ্চ শিক্ষা আছে, তারা আগুন ধরানোর এই বিষয় নিয়ে জনস্বার্থে ব্লগে আলোচনা করবেন আশা করি।]

বেশ আগের ঘটনা।
পাগলের মত এক ফকির এল বাড়িতে। সেদিন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল বলে সবাই বাড়িতে ছিল। বিশেষ করে নারীরা। পাগল শুরুতেই বিভিন্ন কেরামতি পীরখানার ছবি দেখাল। সে নিজে কথা বলে না। লেখা কিছু দেখাল। লেখা ছিল- অমঙ্গল হবে, সংসারে আগুন লাগবে, এই জাতীয় নারীকে ভয় দেখানো কথাবার্তা। তাকে দশ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সে টাকাটা নিয়ে হাতে ঘষলো। এবং টাকাতে আগুন ধরল। পরে তাকে একশত টাকা দিতে সে চলে গেল।

সে চলে যাবার পর আমাকে এই রূপকথা বলতে আসা হল। আমি ঘরেই ছিলাম, নিজের কক্ষে মগ্ন। বাইরের কিছুর দিকে খেয়াল ছিল না। শুনেই মেজাজ চড়ল। আগেই বললাম, কত টাকা নিয়েছে বলতে। আমাকে কমিয়ে বলা হল ভয়ে। তাদের কথা লোকটি কেরামতি জানে। আমি বললাম, তোমরা যদি এসব বল তাহলে লেখাপড়া করে সভ্য হবার কী দরকার ছিল। লোকটির হাতে কেমিকেল লাগানো ছিল, তাতে ঘষিয়েছে, আগুন ধরেছে। এটুকু বুঝানো গেলেও তাদের কথা, টাকা নিয়েছে, দোয়া করবে। মেজাজ আরও গরম হল। বললাম, তার দোয়া যদি ঈশ্বর নামের কেউ শুনতেন তাহলে সে ভিক্ষা করত না। আর ভিক্ষা করলেও লোক ঠকানো এইসব কাজ করত না। তার দোয়াতে যেখানে সে নিজেই খেতে পায় না, সেখানে আমাদের কি দোয়া দেবে। গরম হয়েই কথা বললাম, জানতে চাইলাম- বাড়ির আর কিছু খোয়া গেছে কি না। তাদের বললাম, লেখাপড়া করে দুনিয়ার খবর জেনেও যদি তারা এই কাজ করে তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে।

ফকিরকে ধরতে বেরিয়েছিলাম। কোন দিকে গেছে বাড়ির কেউ বলল না। তাই নিজেই এদিক ওদিক খুঁজলাম। ততক্ষণে লোকটি অন্য কোন দিকে চলে গেছে। আমাকেও বেশ পরে জানানো হল। মানে, মন্ত্রমুগ্ধ দর্শকরা কেরামতি দেখে রূপকথার রাজ্যে গিয়েছিল, তারপরে তা প্রশমিত হলে সেই রূপকথাকে জাগ্রত করতে আমাকে শ্রোতা করতে চেয়েছিল। জিজ্ঞেস করলাম আশেপাশের অন্যদের, কেউ কিছু বলল না। ঝামেলা বাড়াতে চাইল না আর কি। মাথা গরম হিসেবে আশেপাশের সবাই চিনে, কারনামাও ঘটিয়েছি অনেক। তাই আমার চেহারা দেখে সবাই কেন জানি ফকিরের খুঁজ দিল না।

মেজাজ গরম দুই কারণে ছিল। এক- সে রসায়ন ব্যবহার করেছে কিন্তু বুঝিয়েছে ঐশী কেরামতি। দুই- সে দেশের জাতীয় সম্পদ টাকাকে জ্বালিয়েছে। আমার জানামতে এটা দণ্ডনীয়। দেশাদ্রোহীতার শামিল। যদিও এটুকু মাথায় ছিল- অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়েছে লোকটির অথবা লোভে, তাই ছল-চাতুরির পথ বেছে নিয়েছে, আর টোপ দিয়েছে হাজার বছর ধরে চলে আসা সবচেয়ে ফলপ্রসু টোপের। যা হলো- ভীরুতা আর অন্ধ বিশ্বাস।

অবশেষে আমিও ক্ষান্ত দিলাম। কারণ আমাকে অনুনয় বিনয় করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলল।

আমার জানামতে, পানির মত পাতলা কোন কেমিক্যাল এরা ব্যবহার করে যা আগে থেকেই হাতে লাগানো থাকে। সেই কেমিক্যাল হাতে শুকিয়ে যায়। আর তাতে ঘষলে কাগজ জাতীয় কিছুতে সহজে আগুন ধরে যায়। ঠিক কোন কেমিক্যাল তা স্মৃতিতে আসছে না। কেউ জানলে সাহায্য করুন।

সতর্কতা হিসেবে কিছু কথা না বললেই নয়। আমি ধরতে পারিনি। কিন্তু এই ধরণের ফকিরকে ধরতে গেলে সতর্কতা অবলম্বন করবেন। কারণ তাদের সাথে ঝোলা থাকে। সেটাতে অস্ত্র অথবা অন্য কেমিক্যাল থাকতে পারে। এই যেমন, এসিড বা শক্তিশালী ক্ষার। ছলচাতুরীতে যেহেতু এরা ওস্তাদ সেহেতু একা পেলে আপনার ক্ষতি করে যে পালাবে না তার নিশ্চয়তা নেই। আর ধরা পড়ার আগে, নিজের চরম অবস্থা জেনেও ছোবল মারতে পারে। তাই আগে এদের কাছ থেকে ঝোলা আলগা করতে হবে, শরীর সার্চ করতে হবে। গণধোলাই দেওয়ার চেয়ে এদেরকে পুলিশের হাতে তোলে দেওয়া উচিত, এবং সাথে অবশ্যই জনস্বার্থে মামলা করে দিতে হবে। মামলা না করলে অনেকসময় দেখা যায়, পুলিশ কয়েকদিন জামাই আদরে রেখে এমনিতেই লকআপ থেকে ছেড়ে দিচ্ছে। আর পুলিশও তো আমাদের মত। তাদের কাউকে যদি কেরামতির যাদুতে ফেলে দেয়, তাহলে সে তো পুলিশেরও গুরু হয়ে যাবে।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন:

১৫ টি মন্তব্য “ফকিরানা কেরামতি”

  1. কেমিক্যাল বিষয়ে এত জ্ঞান নেই। তবে ঘটনাটা পড়ে একটা ঘটনা মনে পড়ল পরে লেখছি আগে বলে নেই এসব কুসংস্কার বিশ্বাস করা ঠিক না এটা যে ভন্ড লেখার মাঝে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। টাকা জ্বালানোর মাঝে সে কি সুখ পেল বুঝলাম না। টাকা জ্বালিয়েছে এটা পড়েই ভন্ড বুঝলাম।

    ঘটনাটা বলি আমার বাসায় এসব আসেনি কখনও তবে আমার নানার বাড়িতে মাঝে মাঝে আসত শুনতাম, সে ফকির নয় পাগলই ছিল, একজনকে একটা পয়সা দিয়ে বলেছিল যদি তিনি পয়সাটা ফেলে দেন তাহলে অনেক বড় সমস্যায় পড়বেন। তিনি বিশ্বাস করেননি ফেলে দিয়েছেন তারপর পাগলটার কথাই সত্য হল। আরও দুটো ঘটনা এভাবে ফলে ছিল। সেগুলো বলছিনা। হতে পারে এটা কাকতালীয় ভাবে তার কথা মত ঘটে গেছে নয়ত পাগলটার সত্যি এমন কোন ক্ষমতা ছিল। তাই উনারা বিশ্বাস করতেন। এখন জানিনা পাগলটা আসে নাকি আসে না।

    • প্রথমত ভাবুন যে, সেই ফকির যদি না আসত উনাদের বাড়িতে তবুও উনাদের পরিবারে সুখ-দুঃখ, আপদ-বিপদ এগুলো আসত। যাদের বাড়িতে সেই ফকির যায়নি এবং কয়ন দেয়নি, তাদেরও জীবনে ভাল-মন্দ আসছে। তাই সেখানে ফকির বা কয়নের কোন ভূমিকা নেই। মানুষ ভীরু, জীবনে নেগেটিভ সবকিছুকে ভয় করে; তাই ফকির-ওঝা এইসবে বিশ্বাস না থাকলেও জীবনের নেগেটিভ সাইড দেখে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এটা তার আশেপাশের সংস্কারের কারণে। অথচ, সেই ফকির না এলে ঠিকই তার দুঃসময়কে অন্যভাবে ভাবত।

  2. এক ধরণের পাউডার (কেমিক্যাল) আছে যা দিয়ে নাকি তাশ পুড়ানো যায়। দুইটা তাশের উপর পাওডার লাগিয়ে ঘষা দিলেই নাকি আগুণ ধরে যায়। আমার মনে হয় এই ফকিরের হাতে এই জাতিয় কোন কেমিক্যেল ছিল আর টাকার উপর লাগানোর পর ঘষা দিতে পুড়ে গেছে।

    আপনার মতো আমিও একটারে দৌড়ানি দিছিলাম আমার শ্বশুর বাড়ি। :-P ভাইগ্য ভালো আমার শ্বশুর সাহেবের কারণে বাইছা গেছে। :-P

  3. কয়দিন আগে টিভি তে দেখলাম টাইগার বাবা, টাইগার খাইয়ে চিকিৎসা দেয় হাহাগহাহাহাহাহা

    শালা পাগল জনতা, পাগল বিশ্বাস, এই সব দেখে মাথা চ্যাপ্টা আমার, ঘেটি গোল আমার

  4. এই পোস্ট আমার কমেন্ট কই? :>
    সব চক্রান্ত। আমি এক্ষুণি সাধারণ ডায়েরী করতে ছুটলাম :)]

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে আগে লগইন করুন।

জলসাঘরে স্বাগতম!

প্রবেশ পথ

কুঞ্চিকা হারিয়েছে?

সদস্যপদের জন্য

কৃপা করে সারথির কাছে বার্তা প্রেরণ করুন: moderator@jolsaghor.com