
তার জন্য আলাদা একটি প্লেট আছে। খেতে বসলে সেখানেই তার খাবার দেওয়া হয়। কখনও পুরোপুরি খায়। কখনও রেখে যায়। যখন আবার তার মনে পড়ে, এসে খেয়ে যায়।
আমি খেতে বসলে তাকে হয়তো বেশি খেয়াল করি, তাই সে আমার চেয়ারের পাশে এসে বসে থাকে। কিছু বলে না। চুপচাপ বসে থাকে। অপলক তাকিয়ে থাকে। ভাত মেখে তার প্লেটে দিয়ে আসি।
একদিন, বসে খাচ্ছিলাম, তাকে শুরুতেই খাবার দিয়েছি। সে শেষ করে কখন যে আবার চেয়ারের পাশে বসেছিল- গল্পে মশগুল থাকায় খেয়াল হয়নি। পাতে পানি ঢালতে যাব যখন, তখন তার দিকে চোখ পড়ল। সে সেই কখন থেকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ঠিক যেন তীর্থের কাক! ভাবলাম, তাকে তো খাবার দিয়েছি। পেট তার ভরা আছে। কিন্তু তার চাহনির কাছে মন মানল না। আবার তার দিকে তাকালাম। মনটা রবি ঠাকুরের হৈমন্তীতে লেখা বাক্যের মত- হুহু করে উঠলো।
পাতে কোন খাবার ছিল না। মাকে বললাম, এক টুকরো মাছ দিতে। মাছের ভাজা ছিল না, ডিম ভাজা ছিল। এক টুকরো দিলেন। তাকে দিলাম। সে খেল। এবং চুপচাপ চলে গেল। অবাক হলাম তার আচরণে। সে আরেকটু কিছু খেতে ইচ্ছুক ছিল, তার জন্য- কতটা সময় ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছিল। আশায় পথ চেয়ে থাকা, প্রতীক্ষা, কত যে দূর্বিষহ। কিন্তু সে করে গেছে। আমার খাওয়াতে ব্যাঘাত হবে, তাই সে ডাকেনি। আবেদন করেনি। শুধু তাকিয়েছিল। যখন পেল, সে তৃপ্ত হল। আর সে চলে গেল।
আমাদের বাস্তব জীবনে আমরা কতভাবে এভাবেই কর্তার দিকে তাকিয়ে থাকি। প্রশাসনিক কাজে, অর্থনৈতিক কাজে, চাকুরীতে, সমাজে……।



নাজমুন নাহার বলেছেন:
আসলেই তাই । কেউ কেউ আছেন যাদের অন্যের করুনার উপর বেচে থাকতে হয় । মানুষের জন্য সে জীবন সত্যিই দুর্বিষহ ।