দুরারোগ্য ব্যধি হলে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তদের প্রথম পছন্দ চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া। ক্যান্সার, হৃদ রোগ ইত্যাদি অনেক রোগের জন্য। দেশী ডাক্তার ও চিকিৎসাব্যবস্থার সমালোচনায় অনেককেই ব্লগে ভারতের চিকিৎসাব্যবস্থার গুণগান গাইতে দেখেছি। সুফল পেয়েছেন, সুচিকিৎসা পেয়েছেন, বা এসব নিয়ে সুঅভিজ্ঞতা আছে বলেই হয়তো এমন বলেছেন। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ঐসব যতটুকু সত্য, তার চেয়েও বড় সত্য- ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থাও ভারতের সার্বিক পরিসরে অনৈতিকতা ও ব্যবসা কেন্দ্রিক এবং দুর্ণীতিগ্রস্থ।
কথাটি আমার নয়। আমীর খানের শুরু করা রিয়ালিটি শো ‘সত্যমেব জয়তে’-তে ভারতের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা তোলে আনা হয়, আলোচনা করা হয়। চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে জানার আগ্রহ থেকে এই বিষয়ক পর্বটি দেখি। কারন আমাদের দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ রোগী প্রতি বছর চিকিৎসা নিতে ভারত যান।
অনুষ্ঠানে যা দেখলাম, সুস্থ মানুষকে রোগী বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে ডাক্তারের কাছে গেলে। এক লোকের পায়ে সাধারণ ফোঁড়া হয়েছিল। যা এমনিতে সাধারণ ঔষধে ভাল হত। কিন্তু টাকার লোভে ডাক্তার অপারেশন করে, হিতে বিপরীত হয়ে সেই লোককে আঙ্গুল কাটতে হয়। চারবার অপারেশন করতে হয়।
এক মেজরের স্ত্রী, কিডনিতে সমস্যা ছিল। ডায়ালোসিস করেই ভাল চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কিডনি বদলের ব্যাপারে ডাক্তার আগ্রহী হয়ে উঠে, বলে যে কিডনি দাতা পাওয়া গেছে। মতামত দেবার আগেই, তারা রোগীকে নিয়ে যায় অপারেশনে, পরিবারের অজান্তেই। এবং সেই রোগীকে বাঁচানো যায়নি। যে ডাক্তার অমন করেছে তার সেই যোগ্যতা নেই, ঐ চিকিৎসালয়ের লাইসেন্স নেই। মামলা হয়েছে। মামলা ঝুলছে।
দেখা গেল, চিকিৎসা বিজ্ঞান এগিয়ে যাওয়াতে, ভারতে আভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটাকাটি খেলনার মত হয়ে গেছে। যেহেতু এসবে খরচ বেশি, লাভ বেশি, তাই ডাক্তাররা প্ররোচিত করে রোগী ও তার পরিবারকে শিকার বানায়। রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও কমিশন নির্ভর, ডাক্তাররা কমিশন পায়, তিনগুণ চারগুণ খরচ রোগীকে বহন করতে হয়। ঔষধের ক্ষেত্রেও এমন। চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে তদারকি প্রতিষ্ঠান এমসিআই- নিজেই চরম দুর্ণীতিগ্রস্থ।
আমি বলছি না যে ভারতে একেবারেই ভাল চিকিৎসা হয় না। চিকিৎসাসেবায় নামকরা অনেক অনেক ভাল প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে। অনেক অনেক ভাল ডাক্তার থাকতে পারেন। তাই ভাল করে জেনে-শুনে কোন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার আহবান জানাই, যেখান থেকে সত্যি সত্যি সুচিকিৎসা, সুব্যবহার এবং সুসমাপ্তি পাওয়া যায়।
*কেউ দেখতে চাইলে দেখতে পারেনঃ
Does Healthcare Need Healing? – 27th May 2012


