তাইরে বালা ফাই,
তাই জেবালা আটিয়া জায়-জানর মাঝে তক্কার তক্কার করে,
সুরমা গাঙ্গো উজানেদি ফানি ছুটে, ইলাখান লাগে-
খই-মাগুর-ছেং গাছর আগা বায়দি হাতরাইরা জেলাখান,
বিয়ান ফইছমেদি অইলে জেলাখানা।তাইরে বালা ফাই-
তাই আমার জানর জান, খলিজার আধাখান;
তাই আমার আন্দাইর রাইতর লেম,
তাই আমার মাঘ মাইয়া ঝাড়োর খাতা,
চইত মাইয়া গরমো খইলালর খলসো রাখা ঠাণ্ডা ফানি।মুই ফুকরির এষনাত্ লাগাইল ফরিশ গাছর লাখান
বাতাস দিলে-উ আইল-বিল খরি, তাইরে দেখলে-উ;
তুফান আইলে গুয়া গাছর লাখান মাথা লাড়িয়া খই-
তাইরে ছাড়া বাছতাম নায়, বাছতাম নায়;
তাইরে বালা ফাই।আমি শিমুলর গাছ বাইয়া উটতাম ফারমু,
মান্দার গাছর লগে গলাগলি খরতাম ফারমু,
ছুতরা ফাতার বরন মাথাত দিয়া আটতাম ফারমু,
হিঙ্গি মাছর গাতা খাইয়া ছিল্লাইতাম ফারমু-
তাইরে বালা ফাই, তাইরে বালা ফাই।তাইরে বালা ফাই, তাইরে বালা ফাই;
বাছতাম নায় তাইরে ছাড়া, তাইরে বালা ফাই।



সজল শর্মা বলেছেন:
তাইরে বালা ফাই,/ তাকে (স্ত্রীলিঙ্গে) ভালবাসি
তাই জেবালা আটিয়া জায়-জানর মাঝে তক্কার তক্কার করে,/ সে (স্ত্রী) যখন হেঁটে যায় প্রাণের মাঝে ধুকুর-পুকুর করে
সুরমা গাঙ্গো উজানেদি ফানি ছুটে, ইলাখান লাগে-/ সুরমা নদীতে উজানে পানি ছুটে, এমন লাগে-
খই-মাগুর-ছেং গাছর আগা বায়দি হাতরাইরা জেলাখান,/ কৈ-মাগুর-টাকি গাছের শাখা দিয়ে সাঁতার কাটছে যেমন
বিয়ান ফইছমেদি অইলে জেলাখানা।/ সকাল পশ্চিমে হলে যেমন (সূর্য পশ্চিমে উদয় হলে যেমন)
তাইরে বালা ফাই- / তাকে ভালবাসি
তাই আমার জানর জান, খলিজার আধাখান;/ তাই আমার প্রাণের প্রাণ, কলিজার অর্ধেক
তাই আমার আন্দাইর রাইতর লেম,/ সে আমার আঁধার রাতের প্রদীপ
তাই আমার মাঘ মাইয়া ঝাড়োর খাতা,/ মাঘ মাসে শৈতপ্রবাহে সে আমার কাঁথা
চইত মাইয়া গরমো খইলালর খলসো রাখা ঠাণ্ডা ফানি।/ চৈত্র মাসের গরমে কলসীদানীর (খইলাল্) কলসীতে রাখা ঠাণ্ডা পানি
মুই ফুকরির এষনাত্ লাগাইল ফরিশ গাছর লাখান/ আমি পুকুরের একেবারে কিনারে (জল ঘেষাঘেষি মাটির অংশে) লাগানো শিরিষ গাছের মত
বাতাস দিলে-উ আইল-বিল খরি, তাইরে দেখলে-উ;/ বাতাস দিলেই হেলা-দোলা করি, তাকে দেখলেই
তুফান আইলে গুয়া গাছর লাখান মাথা লাড়িয়া খই-/ ঝড় এলে সুপারী গাছের মত মাথা নাড়িয়ে বলি
তাইরে ছাড়া বাছতাম নায়, বাছতাম নায়;/ তাকে ছাড়া বাঁচব না, বাঁচব না
তাইরে বালা ফাই।/ তাকে ভালবাসি
আমি শিমুলর গাছ বাইয়া উটতাম ফারমু,/ আমি শিমুলের (কাঁটাযুক্ত) গাছ বেয়ে উঠতে পারব
মান্দার গাছর লগে গলাগলি খরতাম ফারমু,/ মান্দার (খুবই তীক্ষ্ণ কাঁটাযুক্ত) গাছের সাথে কোলাকোলি করতে পারব
ছুতরা ফাতার বরন মাথাত দিয়া আটতাম ফারমু,/ চুতরা পাতার প্রলেপ মাথায় দিয়ে হাঁটতে পারব
হিঙ্গি মাছর গালা খাইয়া ছিল্লাইতাম ফারমু-/ শিং মাছের কাঁটার আঘাত(খুবই যন্ত্রনাময়) খেয়ে চিতকার করে বলতে পারব
তাইরে বালা ফাই, তাইরে বালা ফাই।/ তাকে ভালবাসি তাকে ভালবাসি
তাইরে বালা ফাই, তাইরে বালা ফাই;/ তাকে ভালবাসি, তাকে ভালবাসি
বাছতাম নায় তাইরে ছাড়া, তাইরে বালা ফাই। / বাঁচব না তাকে ছাড়া, তাকে ভালবাসি