পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে একটি দরজা চোরি হল। তখন পর্যন্ত বুঝা গেল না এই চোরির মাহাত্ম্য।
নগরের বাসাগুলোতে গোছগাছ চলছে। তাদের সবাইকে নগর ছাড়তে হবে। বড় এক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। কিন্তু তাদেরকে বলা হল কোন কিছু সাথে করে না নিয়ে যেতে। কেউই কিছু নিতে পারল না, সব ফেলে যেতে হল।
পোষা বিড়ালকে সাথে না নিতে পারায় ছোট এক মেয়ের মন পড়ে রইল। তার কাছে মহামূল্যবান একটি পেন্সিল সে সাথে নিল। নগর ছেড়ে গেলেও তার মন পড়ে রইল সেখানে। কবে তারা ফিরতে পারবে এই চিন্তা ছিল তার। এই প্রশ্ন ছিল তার। তার বাবাও জানত না উত্তর কি হবে।
অবশেষে ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হয়ে মেয়েটি যখন পৃথিবী থেকে বিদায় নিল, চোরের মত নিজের বাসা থেকে আনতে হল একটি দরজা। এই দরজার খাটিয়ায় শুয়ে ছোট্ট মেয়েটি তার অন্তিম মাটির শয্যায় শ্মশানের পথে গেল।
পরিবারটি শুধু তাদের নগর নয়, পুরো পৃথিবীকেই হারাল সেদিন।
………………………
কাহিনীটি একটি স্বল্প দৈর্ঘ চলচ্চিত্র ‘The Door’ (দুয়ার) থেকে নেওয়া। ১৯৮৬ সালে ঘটে যাওয়া নিউক্লিয়ার দুর্যোগের একটি কাহিনীরূপ। ইউক্রেনের চেরনোবিল(Chernobyl) নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে ঘটে নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ, উদগিরিত হতে থাকে তেজষ্ক্রিয়তা। এই পাওয়ার প্ল্যান্টের পাশেই অবস্থিত একটি নগর প্রাইপিয়্যাত (Prypiat), যে নগর গড়ে উঠেছিল পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করা কর্মজীবিদের নিয়ে। ১৯৭০ সালে যে নগরের ভিত্তি হয়, তা পূর্ণতা পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে। কিন্তু ১৯৮৬ সালেই তা পরিত্যক্ত হয়ে যায়। চেরনোবিলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পরেই সবাইকে ছেড়ে যেতে হয় এই নগর।
তারপর থেকে ভূতুড়ে হয়ে আছে প্রাইপিয়্যাত। সেনাবাহিনী অথবা পুলিশের বেস্টনী প্রহরা আছে। এখন তেজষ্ক্রিয়তার পরিমাণ কমে গেছে। তাই নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের ব্যবস্থা আছে। যা ২০০৫ থেকে শুরু হয়। নগরের পরিত্যক্ত বাসভবনগুলি পরিচর্যার অভাবে তাদের স্থায়িত হারিয়ে ফেলেছে, গাছ, পরজীবী প্রভৃতি জন্মেছে। বসন্তকালে বন্যা আসে, দেওয়াল ও ছাদের ফাঁক-ফোকর দিয়ে পানি ঢুকে। ২০০৫ সালে স্থায়িত্ব হারানোর কারণে একটি চারতলা বিদ্যালয় ভেঙ্গে পড়ে।
ছবিঃ ভূতুড়ে প্রাইপিয়্যাত নগর। দূরে পরিত্যক্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট দেখা যাচ্ছে।
নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি মানবতার আশীর্বাদ অথবা ধ্বংস উভয়ই হতে পারে।
তথ্য ও ছবিসূত্রঃ
Chernobyl disaster
Prypiat




ফিরোজ খান বলেছেন:
“চোখেদের লোভে, আংগুলগুলোর জিঘাংসায় রক্তাক্ত হচ্ছে হৃদয়গুলো
হাড়গুলোর আক্রমনের ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে আত্ব্যারা
সময়ের এ মহাকালে অভিশপ্ত কিছু গল্প লিখছে হিংসার কলম”
সুন্দর লেখা, সজল দা, সুন্দরভাবে উপস্থাপিত। আমি এর অনেক কিছুই জানতাম না, অল্প অল্প ভাসা কিছু জ্ঞান ছিল, অসংখ্য ভাললাগা।
সজল শর্মা বলেছেন:
স্বল্প দৈর্ঘ ছায়াছবিটি দেখে আমার নজরে আসে। যদিও অনেকবার শুনেছি, বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথা।