হাফ ব্যান আছি তাই ইদানীং আগের মতো নেটে আসতে পারি না।
গিন্নীরে কইলাম ল্যাপটপ তো দিবা না জানি। মোবাইলটা অন্ততঃ একটু দেও।
মক্তবের হুজুরদের মতো ধমক দিয়াঃ-
-তুমি মোবাইল দিয়া কি করবা?
-না,একটু জলসাগরে ডু মারুম।
-সাঁতার জান না জলসাগরে ডুবে মরতে চাও! এতো বছর পর তোমার আত্মহত্যা করার সাহস আইলো কইত্তেকে?নিশ্চয়ই বীর ভাইয়ের বিষ্ঠা পড়া খাইছো!আমারে পীর মানলে তোমার আর এইসব অখাদ্য খাইতে হইতো না।তোমার জীবন মরণ হারাম! থুক্কু থুক্কু! আরাম কইরা কইরা যাইতো।কথায় আছে না ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে! যাউকগা!আমার জন্য বাকি তিনটা ডিমের সাথে এককাপ কফিও নিয়া আও।আমার দেরী হইয়া যাইতেছে।
-একটু আগেইতো তিন প্লেটে তিন এগারো (১১x৩=৩৬ )ছয়ত্রিশটা সিদ্ধ ডিম আর ব্রেড দিয়া গেলাম গিল্লা ফালাইছ?
-মানুষ হুদাই কি আর বেয়াক্কেলের ২২শে কুড়ি কয়! যাও বাকী তিনটা তারাতাড়ি নিয়া আও। এখন বুচ্ছি বিজনিসে লস কেন খাইছো।
-বিজনেসে লস তো খাইছি বীরের কারণে! বীর ভাবী হাত খরচের জন্য যে টাকা দেন দুই দুইটা গার্ল ফ্রেন্ড লইয়া বেচারার পোষায় না। তাই ভাবী সবজীর জন্য যে টাকা দিতেন হেই টাকা দিয়া বান্ধবীদের কোনরকম ম্যানেজ কইরা নিতেন, আর বাকিতে আমার কাছ থাইকা সবজী নিয়া ভাবীরে বুঝ দিতেন।উনিই তো আমারে টেকা দেওয়ার সময় কইতেন তিন এগারো ছয়ত্রিশ, আর টেকা নেওয়ার সময় কইতেন তিন বারো তেত্রিশ!আমার কি দোষ!
-তুমি থাকো তোমার গুন লইয়া, আমি গেলাম।তোমার মোবাইল কিচেনে হিদল শুটকির ডিব্বায় রাখা আছে নিয়া নিও।
-কই যাইতেছ একটু কইয়া যাও?
- কাইল খোটা দিয়া কইছিলা যে আমি তোমার কোন আত্বিয়দের বাড়িতে যাই না।তাই আইজ যাইতাছি তোমার শ্বশুর বাড়ি।এখন থাইকা প্রতিদিন যামু ।ফ্রিজে কাইল রাইতের খাবার রাখা আছে খেয়ে নিও,আমি গেলাম।বাই বাই!
গিন্নী যাওয়ার পর আমি হিদলের ডিব্বা খুলতেই ইয়াক! কি গন্ধরে বাবা!মোবাইল হাতে নিয়া আরও টাস্কিত! আমার কালা মিয়া পিঙ্কি আপু হইলো কীমতে? ঘটনা বুইঝা ফালাইছি। মালা বদল!থুক্কু মোবাইল বদল হইয়া গেছে। আমার আর গিন্নীর সেইম সেন্ডেল! থুক্কু, মডেল,শুধু রঙের পার্থক্য ।গিন্নী ওরটা রাইখা আমারটা নিয়া গেছে। কি আর করা দিলাম কল।
-হ্যালূ! হ্যালু!তুমি কোথায়? (গলার আওয়াজ শুইনাই বুইঝা ফালাইছি গ্যাসট্রিক মাথায় ছইড়া গেছে গিন্নীর)
-আমি তোমার মাথায়!মোবাইলের রিং টৌন কাউয়ার ডাক রাখছো কেন?আমার নাম্বার বেলাইনে সেইভ কইরা কাউয়ার ছবি দিছ ?আমার নাম কি ভুইলা গেছ? বাসায় আসি আইজ বুঝবা মজা!
- আরে! তুমি রাগ করছ কেন?তোমার নাম যাতে ভুইলা না যাই হেই জন্যই তো মায়া কইরা তোমার কামের সাথে মিলায়া ছবি দিছি।তোমারে লাইনে আনতে পারলে কি আর বেলাইনে রাখতাম!
লাইন কাইটা গেল।আমিও মোবাইল পকেটে রাইখা সবজী বাজারের দিকে রওয়ানা দিলাম।কিছুক্ষণ পর আমার পকেট থাইকা বিলাইয়ের কান্নার আওয়াজ আইতাছে শুইনা আমি কাইপা উঠি। হাত দিয়া দেখি মোবাইল বাজতাছে।মোবাইল বাইর কইরা দেখি স্ক্রিনে আমার নম্বর থাইকা কল আইছে।অর্থাৎ গিন্নী কল দিছে।একটা বিলাইয়ের ছবির সাথে কলারের নামের জায়গায় ”মিনসে” দেখায় স্ক্রিনে।আমিও গ্রিন বাটনে গোতা দিয়া মিঞাও!মিঞাও!করতে লাগলাম।
গিন্নীও কম না।কেইস বুইঝা ফালাইছে তাই কইলো এক্ষনি আমার মোবাইল দিয়া তোমারটা নিয়া যাও।
কি আর করা হোম মিনিস্টারের হুকুম।লেঙ্গুর তুইলা দিলাম দৌড়।শ্বশুর বাড়ির দরজায় নোক করতেই ভিতর থাইকা ঘেউ ঘেউ কইরা কুত্তা বকতে লাগলো!আমি দৌড় দিমু এইসময় আমার শালার বউয়ের ছোট ভাই আইসা দরজা খুইলা দিয়া কইলো, দুলা ভাই ভয় নাই।ভিতরে আইসা পড়েন এইটাও আপনার মতো Harmless! শুধু বকে কামড় দেয় না।আমি কইলাম শালার শালা তুই আমারে শেষ পর্যন্ত_____! ছিছিঃ দুলা ভাই! আপনে হইলেন গিয়া খাটি জিনিষ আর এইটা Dummy!আপনার সাথে কি আর এইটার তুলনা হয়? এইসময় পিছন থাইকা আমার গিন্নী আইসা হাত বাড়াইয়া দিয়া কইলো ধর! আমি কইলাম ছিছিঃ সবার সামনে!
তারপর গিন্নীর হাত থাইকা মোবাইলটা নিয়া জলসাগরে ডুব,থুক্কু ঢুকার চেষ্টা করলাম মাগার! ঢুকতে না পেরে চলে গেলাম সবজী বাজার।সেখানে বীর ভাই আমারে দেইখা মুখ লোকানোর চেষ্টা করাতাছিলেন।কিন্তু আমার চোখের পাওয়ার কম হইলেও নাকের পাওয়ার বেশ ভালই!
(নিজ গুণে এখানে সঠিক ইমো বসায়া নিবেন)
তাই আর ফাঁকি দিতে পারলেন না।আমি কইলাম বীর দা এই ব্যবসায় কবে তাইকা নামলেন? দেন ভাই আমার পাওনা টেঁকাগুলো দেন।

উনি কইলেন তুমি যেইদিন থাইকা বন্ধ করছো হেইদিন থাইকা আমার শুরু।টেকা দিবার পারুন মা,সবজী চাইলে নিতে পারো। আমি কইলাম ঠিক আছে সবজিই দেন সাথে এক্কান বুদ্ধি! আমি জলসাগরে ঢুকবার পারতাছি না। এক্কান উপায় বাতলায়া দেন। বীর ভাই কইলেন মডুর কাছে Female !
থুক্কু, মেইল পাঠাইতে হইবে।আমি কইলাম White or Black Male?
উনি তেক্ত হইয়া কইলেন Female বাদে যেকোন Male পাঠাইলেই কাম চলবে! আমি কইলাম সব male রে দিয়া সক্কল কাম হইলে কি আর Female রা_______!
বীর ভাই কইলেন ব্যস ব্যস! আর সামনে আগাবে না। ঘাটে আমার নৌকা বান্দা আছে তুমি এখনি রওয়ানা দেও। এই নেও আমার পক্ষ থাইকা এই ফুলটা মডুরে দিয়া দিও।আমি কইলাম ফুল কই? এইটা তো Cauliflower!
বীর ভাই কইলেন কলিটা সজলদারে দিয়া flowerটা মডুরে দিয়া দিও। তুমি এখন যাও আমার ধান্দার সময় ডিস্টার্ব কইরো না। স্পেশাল কাস্টমার আইবার সময় হইয়া গেছে।
আমি আসার আগে আড়াল থাইকা আমার মোবাইলা দিয়া উনার স্পেশাল কাস্টমারের সাথে স্পেশাল সার্ভিসের এক্কান ছবি তুইলা নিয়া আইছি আফনেগো জন্য।

ইদানিং বীর ভাই ব্লগিং ছাইড়া অনেক ধরণের ধান্দা শুরু করছেন তাও আগামীতে কানা টিভির পর্দায় দেখানো হবে।
দেখেন কেমন নৌকা আমারে দিছিলেন।

আমি যাতে ডুইবা মরি হেই ব্যবস্থাই তিনি করেছিলেন।আমার দেরীতে আসার কারণ নিশ্চয়ই বুঝতে আর বাকি নেই আপনাদের!!
যাউকগা কে কি নিয়া আইছেন বীর ভাই আসার আগে দিয়া ফালান।উনি আইলে ভাগ চাইয়া বসবেন।



স্বপ্নবাজী বলেছেন:
আমিই ১ম!
স্বপ্নবাজী বলেছেন:
রঙ্গীলা বলেছেন:
একা দোউরালে তো ১ম হইবেনই
সজল শর্মা বলেছেন:
এইগুলা উনারে দলিল কইরা দেওয়া। আর কেউ নিতে চায় না।
রঙ্গীলা বলেছেন:
কবির ভাই রাজি হবেন না।
স্বপ্নবাজী বলেছেন:
আমার কাপ, আমার দলিল। এইখানে আর কোন কথা নাই
সজল শর্মা বলেছেন:
চর দখলের মত লাঠিয়াল নিয়ে আসেন।
স্বপ্নবাজী বলেছেন:
কী আশ্চর্য! আমার কাপ আমি নেব এতে এত কথা কেন!!
রঙ্গীলা বলেছেন:
লাটিয়ালের ব্যবাস্থা করতাছি
এরপর থেকে কাপে হাত দিলেই 
স্বপ্নবাজী বলেছেন:
সজল শর্মা বলেছেন:
ওরে হাসতে হাসতে শেষ। আমারে কেউ ধরেন।
বিলাই, কাউয়া!
স্বাগতম রঙ্গীলা ভাই। এমন জিনিসই তো দরকার জলসাঘরে।
বীর ভাইয়ের খবর আছে। এমন নৌকা কেন দিলেন জলসাঘরে আসার পথে।
রঙ্গীলা বলেছেন:
থ্যাঙ্কু দাদা! বীর ভাইয়ের খবর আমার কাছেও মেলা আছে।উনি ব্লগিং ছাইড়া নতুন নতুন দান্দা শুরু করছেন।সবি কানা টিবির প্ররদায় দেখানো হবে।
সজল শর্মা বলেছেন:
কানা টিভির পর্দায় চউখ দেড় ব্যাটারি কইরা বসাই রাখলাম। অনুষ্ঠান শুরু হইলে যেন মিস না যায়। ব্যাটারী কমলে ভেতরে ছালি ভরে নেব।
রঙ্গীলা বলেছেন:
ব্যাটারীর অভাব হইবে না।দরকার পড়লে বীর ভাইকে দিয়াই নতুন কিছু আবিষ্কার করায়া লইবো
সজল শর্মা বলেছেন:
মাটির পাতিলে গোবরের পানি ভরে ব্যাটারি হয় কি না দেখার কাম। হইলে তো গোবর পড়ার ব্যবসা ডাবল হয়ে যাবে।
রঙ্গীলা বলেছেন:
গোবর দিয়া আগুণ ধরানো গেলে ব্যাটারীও স্মভন হবে। বীর শুনলে কিন্তু আবার এই ব্যবসায় নাইমা পরবেন
সজল শর্মা বলেছেন:
তাহলে আর দেরি কেন। দেশের অর্থনীতিরে আরও চাঙ্গা করতে নতুন ব্যবসার দরকার।
প্রতীপ বলেছেন:
হা হা হা … … …
ভালো করেছেন এসে পড়েছেন।
রঙ্গীলা বলেছেন:
এসেতো পড়েছি! দেখি এখন ঊঠতে পারি কি না
কেতকী বলেছেন:
কয়েকদিন ধরে জলসাঘর খুব নিরব নিরব লাগছে। সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্নার কথা শেয়ার করে আপনারাইতো (ব্লগারগণ) সাথে আমিও আছি জলসাঘরকে প্রাণবন্ত করে তুলবেন। মডারেটরের মত কথা বলে এখন একটু ভয় লাগছে।
দারুন পোষ্ট, মজা পেলাম।

রঙ্গীলা বলেছেন:
আমি থাকতে কোন ভয় ভরসা নেই
সারথি বলেছেন:
এই ব্লগে ‘মডারেটর’ শব্দের অর্থ ‘সারথি’। যার অর্থ চালক। যদিও প্রশাসনিক প্রয়োজনে এক বা একাধিক জনকে এই দায়িত্ব নিতে হয়। তবে সত্যিকার অর্থে প্রত্যেক ব্লগারই একেকজন সারথি। সবাই ‘সারথি’ হোন না বলেই তো মাঝে মাঝে ব্লগ থেমে থাকে।
রঙ্গীলা বলেছেন:
ঠিক বলেছেন আমরা সবাই সারথির দায়িত্বটা পালন করি না বলেই এমন হয়।আমার পোষ্টে আসার জন্য ধন্যবাদ।
ফিরোজ খান বলেছেন:
ভাই জান, আইসা তো পড়ছেন, পইড়া ব্যাথা পান নাই তো? হাহাহা
সা গো ত ম
লেখায় প্রিয় শব্দ জা গো তম
ভাল থাকুন। সব সময় সাথে থাকুন সব সময়
চৌধুরী শাহানা বলেছেন:
হাসির ভাণ্ডার দেখছি এইখানে।মজাদার হাসি।পেটখালি কইরা বসতে হইব,নতুবা খবর আছে।
শ্রাবণ আকাশ বলেছেন:
ইশ্ অনেক আগেই দেখি এসে গেছেন। আম্মো আইলাম