2.
প্রতিদিন কলেজে যাওয়া আসার পথে ছেলেটাকে দেখি। বয়স আনুমানিক ২৫/২৬।
পিচ ঢালা রাস্তার একপাশে শুয়ে থাকে ।দু হাত পা ছড়িয়ে চিত হয়ে আকাশের দিকে মুখ ।
উপরে সূর্যের গনগনে তাপ নীচে তপ্ত রাজপথ ।
তার দু হাত এর কনুই এর পরের অংশ নেই আর দু‘পা এর হাটুর পরের অংশ টুকু নেই ।
প্রায় সময় মনে হয় ‘ কিভাবে কাটল তার হাত পা । নাকি ইচ্ছে করে কোন কেউ কেটে দিয়েছে ,নাকি কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ এর সাথে জড়িত ছিল । অথবা হতে পারে accident .
কারা যেন ওকে সকালে এসে শুইয়ে দিয়ে যায় ওকে আবার নিয়ে যায় একসময় হয়তো । ওর পাশে আলুমিনিউম এর একটা থালা । কেউ দয়া হলে দু চার পয়সা ভিক্ষে দেয় অথবা দেয় না ।
কিন্তু অবাক করে যেটা সেটা হল নিচে যে তপ্ত মাটি আর উপরে সুরযের প্রচণ্ড তাপ ,তা কি কখনও ওকে স্পর্শ করে না ? ও ভাব লেশহীন ভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে । তাকিয়েই থাকে। কোন অনুভুতি যেন নেই ।কষ্ট ও যেন নেই । এত এত মানুষ তার পাশ দিয়ে আসা যাওয়া করে ও কখনও কারো কাছে ভিক্ষেও চায় না ।ফিরেও চায় না ।
আমি প্রায় ই ভাবি ইস ও যদি কোন বিত্তবান ঘরের ছেলে হতো অথবা মধ্যবিত্ত ঘরেও তার জন্ম হতো তাহলে হয়তো পড়া শোনা করত অথবা কোথাও কোন অফিসে IT SPECIALIST হতো অথবা কোন কলেজে অথবা university te পড়াশোনা করত তাহলে কেমন হতো ।দু হাত দু পা ঠিকমত থাকতো ।প্রাণবন্ত চলাফেরা ।কত কি ই না হতে পারত !
আমার কল্পনায় ছেলেটি কখন ও ক্রিকেটার কখনো গায়ক কখন ও সফল জীবনে দুর্দান্ত অভিযাত্রী কখনওবা কোন অফিসের করিতকর্মা কোন সফল এক্সিকিউটিভ।
এরকম পরিস্থিতিতে আমরা আল্লাহর উপর শুকরিয়া করি ধন্যবাদ জানাই তাঁকে যে তিনি আমাদের এই রকম খারাপ পরিস্থিতিতে ফেলেন নি । আর দু চার পয়সা ভিক্ষে দিয়ে নিজেদের পাপ লাঘব করার চেষ্টা করি । সৃষ্টি কর্তাকে ধন্যবাদ জানাই “হে সৃষ্টিকর্তা আমাদের তুমি ত্রান কর ,আমাদের তুমি রক্ষা কর যেন আমরা এরকম কষ্ট না পাই ।“
আমরা সবাই খুব স্বার্থপর । তাই হয়ত নিজের আখের আর নিজের জাগতিক দিকটাই দেখি । অন্যদের দুঃখ কষ্ট দেখলে একটু খানি সাহায্য করি অথবা এড়িয়ে যাই ।
তবু এর ই মধ্যে কেউ না কেউ থাকে । ফেরেস্তার মত তাদের দু হাত বারিয়ে দেন ।
কিন্তু মনে হয় ভুল বললাম । মানুষ ই এগিয়ে আসে ।
কেউ না কেউ । এবং সবসময় ই ।



সজল শর্মা বলেছেন:
হ্যাঁ, মানুষই এগিয়ে যায়। এটাই মনুষ্যত্ব।

পোস্টের মানবিকতা, আর লেখা ও চিন্তার গভীরতা, একেবারে অন্তরে ছাপ রেখে যায়।
নাজমুন নাহার বলেছেন:
সজল দা কেমন আছেন । আপনার অনুপ্রেরণা আমার সবসময় মনে থাকবে । ভাল থাকবেন অনেক ।
সারথি বলেছেন:
এই পোস্টের ক্যাটেগরি ‘জীবনের কথা’ করে দেওয়া হল।
আরও লেখুন, এমন জীবনের কথা। লেখাটিকে নির্বাচিত করা হল।
নাজমুন নাহার বলেছেন:
ধন্যবাদ ভাইয়া । শুভকামনা রইল ।
চৌধুরী আব্রাহাম বলেছেন:
লেখাটা পড়লাম। পড়ে মুগ্ধ হলাম।
নাজমুন নাহার বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ । শুভকামনা রইল ।
কেতকী জাহান বলেছেন:
আমরা সবাই খুব স্বার্থপর । তাই হয়ত নিজের আখের আর নিজের জাগতিক দিকটাই দেখি । অন্যদের দুঃখ কষ্ট দেখলে একটু খানি সাহায্য করি অথবা এড়িয়ে যাই ।
ঠিক কথাটিই বলেছেন। অনেক সুন্দর করে লেখেছেন।