(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
সুপ্রিয় বন্ধু.
ইতি পূর্বে বিবাহ বহির্ভূত গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করা পাপ নয় এবং অনাকাঙ্খিত ভ্রণ বা নবজাতকদের হত্যা রোধের চিন্তাভাবনা নামে ২টি পোস্ট দিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ লিখলাম উভলিঙ্গ বিশিষ্ট মানুষদের সম্পর্কে।
উভলিঙ্গ বিশিষ্ট মানুষদের ইংরেজিতে ইন্টারসেক্স বা হার্মফ্রোডাইট (আর বাংলায় ‘হি…’ ভাষার অযোগ্য) বলা হয়। একমাত্র শারিরীক লিঙ্গের ত্রুটির কারণে মানুষের গর্ভে জন্ম নিয়েও এরা ঐ নামটি নিয়ে পশুর মত অবহেলিত, বঞ্চিত ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। বৈধ পিতামাতার বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হয়েও, নিজের জন্মের জন্য দায়ী না হলেও, পিতামাতার সংসারে এরা অবৈধ, ভাই-বোনদের কাছে অবহেলিত। হাসি-তামাশার পাত্র হয়ে গালি খেয়ে খেয়ে নিজ পরিবার থেকে বিতাড়িত হয়। তারা স্কুলে পড়াশুনা করতে পারে না। সমাজের কাছে অভিশপ্ত। অভিশপ্তদের উপর বর্ষিত হচ্ছে শিক্ষিত জনতার যথেচ্ছ লাথি, থুতু পাথর।
বাংলাদেশে কোন সরকারী ফরমে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য কোনো অপশন নেই; তাদের হয় নারী বা পুরুষ হিসেবে ফরম পূরণ করতে হয়। কোন কোন দেশে একটা ভিন্ন এঅপশন আছে। যেমনটি আছে অস্ট্রলিয়ার Passport-এ। নমুনা দেখুনঃ
A passport must include either the letter M (male), F (female) or X (unspecified). বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গুরুত্বের সঙ্গে তৃতীয় লিঙ্গ ওকালতি করা হচ্ছে। বর্তমান যুগের শাসকদের রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট উন্নত। এই মানবগুলোর জন্য সত্যিকার আত্মমর্যাদাবোধ, সর্বজনীন কল্যাণবোধ, স্বাধীন চিন্তাশীলতা এবং সকল প্রকার উন্নত প্রযুক্তি অবলম্বন অপরিহার্য। এ ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান ও ধারনা সীমিত। নিবিড় মেহনত, তথ্য-পরিক্রমা ও অুসন্ধানের পর এ পর্যন্ত যা লিখলাম, তাতে চমকের কিছু নেই।
বাংলাদেশ একটি অনুন্নত ও গরীব দেশ। শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক, আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক ভাবারায়ও আমরা বিব্রত ও দ্বিধাগ্রস্থ। গ্লানিময় ও অন্তঃসারশূন্য এই নগরজীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্রণদের এবং উভলিঙ্গ বিশিষ্ট শিশুদের গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের আত্মার অসুখের নিরন্তর বিষাদ-বীক্ষণে এই ছোট্ট ছোট্ট নিষ্পাপ মানুষগুলো মানুষের ভালবাসার জন্য চিরকাল কী শুধু মাটির নীচে মিশে যাবে; আর আবলারা পথের ওপর বসে বসে কাঁদবে! বিপন্ন-বিষণ্ণ আধুনিক নাগরিক মানুষের নৈঃসঙ্গ্য, বিষাদ ও শূন্যতাবোধে এক দিকে যেমন নগরজীবনের কান্না, স্তব্ধতা ও দীর্ঘশ্বাসের বিচিত্র ধ্বনি; অন্য দিকে নগরজীবনের ক্লেদ, গ্লানি ও হতাশার বিরুদ্ধে এক নিরন্তর গেরিলাযুদ্ধে মরিয়া হয়ে নামতে হবে আমাদের। আপনার বন্ধুদের মধ্যে বিজ্ঞ সুধীজনদের আমার শুভাশিষ জানাবেন। যারা অংশগ্রহন করতে চান তাদের সাথে আপনি নিজেও শেয়ার করতে পারেন বিষয়টা নিয়ে।
পরিস্থিতি যা-ই হোক এই সংকট থেকে মুক্তির পথ খোঁজার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমি একটি খসরা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। আমার অবস্থান থেকে নিজস্ব সীমিত সম্পদ দিয়েই শুরু করতে চাই ব্যক্তিগত ভাবে। অনেক বেশি মানুষকে সেবা দেয়া আমার একার পক্ষে অসম্ভব। এ কাজের অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে পৌঁছতে অনেক সমস্যা আছে, অনেক ঝুঁকিও হয়ত আছে, কিন্তু এ কাজ অসম্ভব নয় – সেই ঈমানও আছে আমার। কুসংস্কারাচ্ছান্ন অন্ধকারের বুক চিরে আমার সম্ভাব্য শক্তি নিয়ে ধীরে ধীরে এগুতে প্রাথমিক পর্যায়ে আমি প্রতিষ্ঠা করতে চাই একটি পারিবারিক হোম সেন্টার, যার নাম “মা হীন মাতৃভূমি”।
সমাপ্ত



কেতকী জাহান বলেছেন:
কোন ত্রুটির কারণে হয়ত অনেকের ঘরে এরকম সন্তান হয়। এরকম ত্রুটি কি সন্তান জন্মের আগে জানা যায়না যাতে জন্মের কয়েকবছর পর এরকম না হয় সে ব্যবস্হা আগে নেয়া যায়!